মেধা বিকাশে দুর্দান্ত কয়টি খাবার | food for brain development
শিশুদের বয়সটা হচ্ছে শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের সময়। তাই এসময় খাবার তালিকায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হয়। সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে শিশুর জন্য সুষম খাবার খুব জরুরি।
কি খাওয়াবেনঃ
শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ মায়ের পেটে
থাকা অবস্থায়ই শুরু হয়ে যায়। পর্যায় ক্রমে বয়স বাড়ার সাথে সাথে মস্তিষ্ক বিকশিত হতে
থাকে। আসুন এমন কিছু দুর্দান্ত খাবারের কথা শুনি যে গুলো আপনার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে
বড় ভূমিকা রাখে।
১। জন্মের পর থেকে শিশুদের জন্য একমাত্র সুষম খাদ্য হচ্ছে মায়ের দুধ। বাচ্চার ২ বছর পর্যন্ত অন্য
খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধ খাওয়া চালিয়ে যেতে হবে। সব ধরণের ভিটামিন, অ্যান্টিবডি,
মিনারেল, ফ্যাট, প্রোটিন সব কিছুর যোগান শিশু পেয়ে যাবে মায়ের দুধ থেকেই।
২। ডিমে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড ও লুটেইন আর কোলাইন যা স্মৃতিশক্তি
বাড়াতে সহায়ক। ডিমের কুসুম আর সাদা অংশ, দুটোই শিশুর জন্য বেশ উপকারী। ডিমে
প্রচুর প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন এ ও ফোলেটও রয়েছে- এদের প্রত্যেকটিই কোষের বৃদ্ধি,
বিকাশসাধন ও মেরামতে দরকার।
৩।কলায় থাকে পটাশিয়াম যা শিশুর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। পটাশিয়াম
ছাড়াও এতে রয়েছে আয়রন, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম। শুধু কলা না খাইয়ে,কিশমিশ,
কাজুবাদাম বা দুধের সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন।
৪। প্রচুর আঁশযুক্ত ওটসে থাকে জিঙ্ক, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স
আর ভিটামিন ই। স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ও মস্তিষ্কে শক্তি যোগাতে এট চমৎকার কাজ করে।
৫। মস্তিষ্কের বিকাশে (food for brain health) দই সাহায্য করে। মস্তিষ্কের টিস্যুর
সুস্থ বিকাশে অন্য কোন খাবারের সাথে মিশিয়ে দিতে পারেন।তবে টক দই বেশী কার্যকরী।
৬। মাছ
আর মাছের তেলে আছে প্রোটিন আর ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, যা শিশুকে মানসিকভাবে চটপটে
হতে সাহায্য করে। তবে সামুদ্রিক মাছে কিন্তু পুষ্টিগুণ
অনেক বাশী থাকে।তবে ভাঁজা মাছ দেবেন না। তাছাড়া
মাংসে থাকে প্রচুর জিঙ্ক,আয়রন,
প্রোটিন যা শিশুর মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে সাহা্য্য করে। কিন্তু ফার্মের মুরগির বদলে শিশুকে দেশি মুরগি দিন।
৭। বুদ্ধিবিকাশে ফ্যাট খুবই দরকারি। বিভিন্ন
রকম বাদামে আছে ভালো মানের ফ্যাট।
সেইসাথে প্রোটিন, পটাসিয়াম, ভিটামিন ই, ম্যাগনেসিয়াম। তাহলে আজই আনিয়ে নিন পিনাট
আর বাচ্চাকে দিতে পারেন রুটি বা পাউরুটির সাথে।
৮। আমরা জানি, ব্রেইনের বিকাশের জন্য
আয়রন অতীব জরুরী। বিভিন্ন রকম শাক
যেমন,সরিষাশাক, হেলেঞ্চাশাক, ধনেপাতা, পুদিনাপাতা,লালশাক, পালংশাক, মুলাশাক,
ডাটাশাক--এগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আয়রন ও আঁশ।শিশু সলিড খাবার শুরু করলে নরম
খিচুড়ির সাথে বা স্যুপ করেও খাওয়াতে পারেন।
৯। লাউ বা কুমড়া জাতীয় সবজিতে থাকে আয়রন,
ভিটামিন এ ও সি। বাচ্চার বুদ্ধি বিকাশে বারবার খাওয়াতে হবে।
১০।ড্রাই ফ্রূটে প্রচুর
পরিমাণে আয়রন থাকে । তাই শিশুদের শুকনো ফল খাওয়ানোর অভ্যাস করুন।
১১।শিশুর
জন্য নয়,বড় বাচ্চাদের জন্য পনির উপযোগী।
বাড়ন্ত দেহের জন্য এটি ফ্যাট ও শর্করা সরবরাহ করে।
১২। কালোজামে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস থাকে যা হার্টে রক্ত সঞ্চালন
বাড়িয়ে দেয় এবং ক্ষতির হাত থেকে হার্ট ও মস্তিষ্ককে বাঁচায়। তাই আপনার শিশুকে প্রতিদিন
১-২টা কালোজাম দিতে পারেন।
১৩। আপেল হৃদরোগের আশঙ্কা কমায় ও ব্রেনে
প্রাণশক্তি যোগায়।এর খোসা ও শিশুকে দিতে পারেন কারন এতে আছে প্রচুর পরিমাণে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস।
১৪। নানা প্রকার ডাল, যেমন- মসুর, মুগ, কলাই, খেসারি,
সিমের বীজ এগুলোতে প্রচুর ফাইবার ও প্রোটিন থাকে। ডাল ও সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না
করে খাওয়াতে পারেন আপনার সোনামনিকে।
১৫। শিশুর পানি পানে কোন অবহেলা নয়।নিয়মিত
পানি পানে শিশু প্রাণবন্ত হবে ও শরীর থেকে নানারকম বিষ বের হয়ে যাবে।
কি দেবেন নাঃ
১।চিপস, চকলেট,পিৎজা বা যে কোন
ফাষ্ট ফুড যত কম দেবেন তত ই ভালো।
২। দোকানের তৈরী জুস, বেভারেজ একদম দেবেন না আপনার বাচ্চাকে।

কোন মন্তব্য নেই
If you have any doubts please let me know