শিশুর বমি হচ্ছে | Vomiting in children
শিশুর খাদ্যাভ্যাসের উপর অনেকটা নির্ভর করে শিশুর সুস্থ থাকা। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জোর করে খাওয়ানোর কারনেই শিশু বমি করে(baby vomiting after feeding)। যাই হোক,এ বিষয়ে বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করছি।
বমি কেন হয়:
১। অনেক শিশু আছে যাদের মানসিক চাপ বা টেনশনের বহিঃপ্রকাশ বমির মাধ্যমে ঘটে। যেমন বিশেষ কোন
গন্ধ কারো সহ্য না হলে বমি হতে পারে। এছাড়া অ্যালার্জির কারনে ও হতে পারে।
২। বেশির ভাগ শিশুই সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে খেতে পারেনা। বমি ভাব হয়।
৩। চর্বিযুক্ত
খাবার, ফাস্ট ফুড বেশি খেলে পেটে গ্যাস হয়ে বমি ভাব হতে পারে।
৪। অনেক সময় নবজাতক অতিরিক্ত কান্না করলে বমি করে দেয়। এতে ভয়ের তেমন কোন কারণ নেই।
৫।মোশন সিকনেসের কারনে গাড়িতে বা যানবাহনে বমি করতে পারে।
৬। ২ মাসের কম বয়সী শিশুদের অনবরত বমি হতে পারে। পাকস্থলি ও অন্ত্রের
মধ্যকার মুখ সংকীর্ণ হয়ে গেলে অথবা সেখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে এ বমি হয়। এটি কিন্তু
মারাত্মক জরুরি অবস্থা।
৭।অ্যান্টিবায়োটিক
বা খিঁচুনির ওষুধের কারণে শিশুর বমি ভাব হতে পারে।
৮। বাচ্চা বিষাক্ত কিছু খেয়ে ফেললে বমি হতে পারে।
৯।
যদিও বিরল, নবজাতকের পেটের অন্ত্রে কোনো জন্মগত ত্রুটির কারণে অন্ত্রের পথ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলে শিশু দু-তিন সপ্তাহ বয়সে খাওয়ার পরপরই বমি করে দিবে।
১০। বড় শিশুর
ক্ষেত্রে পেপটিক আলসার, কিডনির অসুখ, ডায়াবেটিস মাইগ্রেনের কারণে বমি হতে পারে।
১১। মাথায় ইনজুরির
পর বমি হলে এটা মস্তিষ্কের ভেতর রক্তক্ষরনের ইঙ্গিত (ব্রেইন হেমোরেজ)।
১২। শিশুর মুখে
অবিরাম ফেনা বের হলে,যেটি কোন ভাবেই থমছে না। এটি নবজাতকের শ্বাস ও খাদ্যনালির
জন্মগত ত্রুটির কারনে হতে পারে।
১৩।ব্রেইন
টিউমার, টনসিলাইটিস বা ফ্যারিনজাইটিস, কানপাকা রোগ, হুপিং কাশি, জন্ডিস,
মূত্রনালির প্রদাহ, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, পেটে নানা ধরনের কৃমি ইত্যাদি অসুখেও বমি
হতে পারে।
চিকিৎসা ও করণীয়ঃ (vomiting in children treatment)
১। বমি হবার সাথে সাথে তাকে খাবার স্যালাইন বা ঘরে তৈরি স্যালাইন খাওয়াতে হবে। যে পরিমাণ বমি করবে তার চেয়ে বেশি পানি ও স্যালাইন খাওয়াতে হবে। খাওয়াতে জোর না করে অল্প অল্প করে কিছুক্ষণ পরপর খাওয়াতে হবে।
২। বমি করলেও শিশুকে
নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। বুকের দুধ খাওয়ানো (vomiting baby breastfeeding) কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না।
৩। কৃমি প্রতিরোধে চিকিৎসকের পরামর্শে
শিশুকে মাঝেমধ্যে কৃমির ওষুধ খাওয়ান। তবে কারণ না জেনে বমির ওষুধ দেওয়া অনুচিত।
৪। শিশুকে জোর করে খাবার খাওয়াবেন না বা শিশুর
খাবার পরিবর্তন করবেন না। পরিবর্তন আনতে হবে খুব ধীরে ধীরে।
৫। বমি আরম্ভের প্রথম ২৪ ঘন্টায় বাচ্চাকে সলিড
ফুড দেবেন না। এর পরিবর্তে চামচ দিয়ে অল্প পরিমাণে ঘনঘন খাওয়ান।স্ট্র ও দিতে পারেন
সুবিধার জন্য।
৬।বড় বাচ্চা যদি ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বমি
না করে,তাকে শক্ত খাবার দিতে পারেন।
৭।স্বাভাবিক ভাবে,আপনার সন্তানের ডায়েটে ফল, শাকসবজি(যেমন আঁশ যুক্ত)দই, আলু, চাল অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
কী করবেন নাঃ
১। প্রথমেই শিশুকে বমি বন্ধ করার ওষুধ দেবেন না।
২। কোন ধরনের ফলের জুস দেবেন না।
৩। শিশুকে ঠান্ডা খাবার (যেমন কোক,জুস)খাওয়াবেন না।
কিছু ঘরোয়া প্রতিকারঃ
১। সবজির হালকা স্যুপ,সাধারণ ঝোল বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন।
২। বমি থামাতে আদার রস ও মধুর মিশ্রন ভালো কাজ করে। হজম প্রক্রিয়াতেও
এটি সাহায্য
করে।
৩। এক কাপ জলে এক চা–চামচ দারুচিনি গুঁড়ো যোগ করে সেটিকে কয়েক মিনিটের জন্য ফুটিয়ে নিয়ে দারুচিনির চা তৈরী করুন। এটি গা গুলানো এবং বমি থেকে উপশম দেয়।
৪। ভাত রান্না হয়ে গেলে, অতিরিক্ত ভাতের মাড়কে ঝরিয়ে নিন এবং বাচ্চাকে মাড়টিকে পান করতে দিন। স্বাদের জন্য সাথে মধু ও দিতে পারেন।
৫। অর্ধেক চা–চামচ এলাচ দানা গুড়ো করে এর সাথে সামান্য চিনি যোগ করে সেই মিশ্রণটিকে আপনার সন্তানকে দিন।
৬। পেঁপে খাবারের মসৃণ এবং দ্রুত হজমে সহায়তা করে। পেঁপে ক্ষতিকারক জীবাণুগুলি দূর করতেও সহায়ক।
৭। এক চা চামচ পেঁয়াজের রস সমান পরিমান আদার রসের সাথে মিশিয়ে আপনার শিশুকে খাওয়ান। এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত ও বমি বন্ধে অত্যন্ত কার্যকর।
৮।
এক চা চামচ জিরা গুঁড়ো এবং এলাচ এর সাথে এক চা চামচ মধু।এই মিশ্রণটি হজমকে
সহজ করে ও অস্বস্তিকর অনুভূতি কমিয়ে দেয়।
৯।
এক টেবিল চামচ করে মধু ও আপেল সিডার ভিনেগার এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে বাচ্চাকে দিন। ভিনেগার শরীরকে ডিটক্সিফাই করার একটি দুর্দান্ত উপায়।
সাবধানতাঃ
১। মায়ের দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে যেন ঝাঁকাঝাঁকি করা না হয়।
২। নবজাতকের ক্ষেত্রে খাওয়ার পর শিশুর ঢেকুর তোলাতে হবে।
যখন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেনঃ
১। শিশুর মধ্যে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা
দিলে যেমন- অত্যধিক দুর্বলতা অথবা ঠোঁট বা মুখের শুষ্কতা, দেরিতে মূত্রত্যাগ।
২।যদি মনে করেন বাচ্চার বমির সাথে পেট
ব্যথা, জ্বর (fever and vomiting in child) , মাথাব্যথা হচ্ছে,তবে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে
হবে।
৩।যদি খাবার খাওয়ার আধা ঘন্টার মধ্যে প্রবল বেগে বমি বেরিয়ে আসে।
৪।মলের সাথে রক্ত আসলে।

কোন মন্তব্য নেই
If you have any doubts please let me know