ক্লিক করুন এখানে

শরীরে কোথা ও পুড়ে গেলে | child burn

পুড়ে যাওয়া একটি গুরুতর সমস্যা বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ যেমন-কেরোসিন, পেট্রল, এসিড,তেজস্ক্রিয় পদার্থ, গরম পানি, গ্যাস ইত্যাদি শরীর পুড়ে যাওয়ার কয়েকটি বড় কারণ শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে (child burn victim) তাৎক্ষণিকভাবে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা দিলে পরে ক্ষতির পরিমাণ কম হয় ছোট,বড় সবার জন্য এই লেখাটি প্রযোজ্য   

 

আপনার কি করনীয়: 

সাধারনত পুড়ে যাওয়া তিন ধরনের (burn injury phases) হয়ে থাকে ফার্স্ট ডিগ্রি বা প্রথম বা স্বল্প মাত্রার পোড়া, সেকেন্ড ডিগ্রি বা দ্বিতীয় বা মধ্যম মাত্রার পোড়া, থার্ড ডিগ্রি বা তৃতীয় বা মারাত্মক মাত্রার পোড়া


প্রথম মাত্রার পোড়ার লক্ষন (first degree burn)

আক্রান্ত স্থানে ব্যথা হবে

চামড়া লালচে হয়ে যায়

পোড়া স্থান ফুলে যায় একধরনের তরল জমা হয়

 

দ্বিতীয় মাত্রার পোড়ার লক্ষন (2nd degree burn)

ফোসকা পড়ে যায়

লালচে আকার ধারন করে

প্রচুর ব্যথা অনুভূত হবে

ফুলে গিয়ে তরল জমা হবে

 


চিকিৎসাঃ(2nd degree burn treatment)

আক্রান্ত স্থান সাধারণ তাপমাত্রার পানিতে ১০-১৫ মিনিট ধরে রাখতে হবে গা পুড়ে গেলে শাওয়ার বা ঝরনার পানির নিচে দাঁড়াতে পারেন পুকুর, নদীর পানিতেও ডোবানো যাবে

পোড়া অংশ জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ (তুলা নয়) দিয়ে ঢেকে দিন যাতে সংক্রমণ না হয়

ব্যথানাশক সেবন করতে হবে

পোড়ার মাত্রা রোগীর পক্ষে সব সময় বোঝা সম্ভব নয় তাই অল্প পুড়লেও একবার ডাক্তার দেখানো উচিত

 

কি করবেন নাঃ

  তুলা দিয়ে ড্রেসিং করা যাবে না শুকনো গজ বা ব্যান্ডেজ ব্যবহার করতে হবে

পোড়া অংশ বরফের পানি, ফ্রিজের পানি বা বরফ দেওয়া যাবে না গরম পানিও ঢালা যাবে না

ডিম, টুথপেস্ট, মাখন এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের মলম ব্যবহার করা যাবে না

 

গুরুতর পুড়ে যাওয়ার চিকিৎসা (3rd degree burn) 

রোগীর শরীর থেকে যতটা সম্ভব পরিধেয় কাপড় খুলতে হবে

ধরনের রোগীকে ঠাণ্ডা পানিতে ডুবানো উচিত নয় কারণ শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে বিপদ হতে পারে

রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়াটা বেশি জরুরি

পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে স্কিন গ্রাফট (skin graft healing), মাইক্রোসার্জারি ইত্যাদি করা যেতে পারে

 

জেনে রাখুনঃ 

পোড়া রোগীর অনেকেই শ্বাসনালিতে কার্বন মনোক্সাইড প্রবেশ করে মৃত্যু হয় তাই আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ওই স্থান থেকে রোগীকে দূরে নিতে হবে

 

কিছু ঘরোয়া চিকিৎসাঃ (child burn treatment)

ঠাণ্ডা পানি : ক্ষতস্থানে অনেক সময় ধরে ঠাণ্ডা পানি ঢালতে হবে ঠাণ্ডা পানি পোড়া জায়গার জ্বালা কমিয়ে ফোসকা পড়ার ঝুঁকি কমায়

অ্যালোভেরা:এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেও কাজ করে ফলে ক্ষত সারাতে, ফোস্কা কমাতে দাগ সারিয়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখে  চা চামচ অ্যালোভেরা জেল সমানভাবে ক্ষত স্থানে লাগিয়ে রাখুন দিনে অন্তত - বার ব্যবহার করুন 

মধু:পুড়ে যাওয়া ক্ষতকে সংক্রমিত হতে দেয় না এটি জ্বালাপোড়া কমায় এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দ্রুত ক্ষত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে   চা চামচ মধু নিন আক্রান্ত স্থানে মেখে রাখুন দিনে বার প্রয়োগ করতে হবে 

টুথপেস্টএর মিন্ট পোড়া অংশের ব্যথা কমায় ক্ষত মসৃণ করতে সাহায্য করে

মিন্টযুক্ত সাদা টুথপেস্ট, ক্ষত স্থানটি ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে পেস্ট মাখুন ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন ভালো ফল পেতে দিনে তিনবার এটি করতে হবে

টি ব্যাগ :চা পাতায় আছে ট্যানিক এসিড যা ত্বককে শীতল করে তাই পোড়া স্থানে ভেজা ঠাণ্ডা টি ব্যাগ ব্যবহার করলে ত্বকের জ্বালা ভাব অস্বস্তি কমে যায়

  

তৃতীয় মাত্রার পোড়ার লক্ষন: 

পোড়া অংশ কালো হয়ে যায় অথবা শুষ্ক সাদা বর্ণ ধারণ করে

শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয়

কার্বন মনোক্সাইড নামক বাতাসের বিষাক্ত পদার্থ ফুসফুসে ঢুকে পড়ে


চিকিৎসা(3rd degree burns treatment): গুরুতর পোড়া রোগীর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে সম্ভব হলে সরাসরি বার্ন ইউনিটে রোগী স্থানান্তর করতে হবে

 

কখন ডাক্তারের কাছে নিতে দেরী করবেন না: 

 পোড়া অংশে জীবাণুর সংক্রমণের মাধ্যমে ইনফেকশনে  বিস্তৃতি  (infected burn) লাভ  করা

বাতাসের বিষাক্ত ধোঁয়া ফুসফুসে গিয়ে শ্বাসতন্ত্র সংক্রমিত হওয়া, শ্বাসনালি ফুলে যাওয়া শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া

শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়া

খিঁচুনি হওয়া

রোগী অজ্ঞান হওয়া

   

মনে রাখবেন: 

আগুন লাগলে শুয়ে পড়ে বারবার মাটিতে গড়াগড়ি দিন সময় দুই হাত দিয়ে মুখ, গলা ঢেকে রাখা উচিত

শরীরে আগুন লেগে গেলে ওই স্থান থেকে যত দ্রুত সম্ভব সরে যান

উঁচু স্থান থেকে লাফিয়ে পরবেন না এতে হাত পা ভাঙার মতো বিপদ যেমন ঘটে, তেমনি মৃত্যুও ঘটতে পারে

বাড়িতে আগুন লাগার উপকরণ গ্যাসের চুলা, ম্যাচ বক্স, ইলেকট্রিক সুইচ সাবধানে ব্যবহার করতে হবে রান্নার সময় জানালা খোলা রাখুন

আগুনের ওপর ভেজা কম্বল বা কাপড় বা বালু চাপা দিন

রান্নাঘরে ‘gas sensor”  ব্যবহার করতে পারেন  

 

 



 

 

 

 

  

 


কোন মন্তব্য নেই

If you have any doubts please let me know

Blogger দ্বারা পরিচালিত.