ক্লিক করুন এখানে

শিশুর সর্দি,কাশি হলে | newborn has a cold

ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের ভাইরাসজনিত জ্বর ও কাশি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। সাধারনত বাড়িতেই শিশুর জ্বর ও কাশির প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।


লক্ষন কি কি (baby cold symptoms):

১। নবজাতকের সর্দিকাশি (newborn cold) হলে নাক দিয়ে পানি পরে (stuffy nose and cough), হালকা জ্বর আসে,হাঁচিকফ হয়, খাবারে অরুচিঅনিদ্রা, হতে পারে।

২। বাচ্চার বুকে সর্দি বসলে (cough and congestion) শ্বাস প্রশ্বাসের ধরণ পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন সে জোরে জোরে নিশ্বাস ফেলবে ।

৩। সন্তান অ্যাস্থেমায় ভুগলে তার মধ্যে বুকে সর্দি বসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৪।  আপনার সন্তান যদি মারাত্মক ভাবে ডিহাইড্রেট হয়, তবে মিউকাস ঘন হয়ে বুকে বসে যেতে পারে। লম্বা সময় ধরে দুধ বা অন্য তরল না খাওয়ার কারনে এরকম হতে পারে।

৫। সিগারেটের ধোঁয়া,গাড়ির কালো ধোঁয়া,রান্নার ধোঁয়া বা অন্য যে কোন ধোঁয়া শিশুর বুকে সর্দি বসে যাওয়ার কারণ হতে পারে।

৬। অকাল প্রসবিত শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব কম থাকে। তাই তাদের মধ্যে সর্দিতে কাবু হওয়ার সম্ভাবনা ও বেশী থাকে।  





 

আপনার করনীয়ঃ

১। শিশুদের কাশি কমানোর উপায় হিসেবে লেবু একটি ভাল প্রাকৃতিক ঔষধ। এটি আদা ও মধুর সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

২। বছর বা তার বেশী বয়সী বাচ্চাদের সর্দি-কাশি নিরাময়ে মধু বেশ নিরাপদ।এতে আছে উচ্চ মাত্রায় এন্টিব্যাক্টেরিয়াল, এন্টিওক্সিডেন্ট।২ টেবিল চামচ মধুর সাথে টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে কয়েক ঘণ্টা পর পর বাচ্চাদের খাওয়ান। তাছাড়া গ্লাস গরম দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে বাচ্চাদের শুকনা কাশি ভাল হয়

সাবধানতাঃ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের মধু খেতে দেবেন না

৩। আদা, জ্বর তাড়াতে বেশ কার্যকরী। এর সাথে মধু মিশিয়ে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।

৪। কমলালেবুর ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। কাশিতেও উপকার দেয়।

৫। নবজাতকের জন্য বুকের দুধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এটা বাচ্চাদের যে কোন রোগবালাইয়ের বিরুদ্ধে কার্যকরী। মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের সর্দিকাশি (baby with cold) নিরাময়ে বুকের দুধ মহৌষধ হিসেবে কাজ করে

৪। মুরগির স্যুপ অনেক কার্যকরী ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। সর্দিকাশিতে ১ বছরের বেশি বয়সী বাচ্চাদের জন্য বেশ ভালো উপকার দেয়।

৫। জ্বরভাব থাকলে কুসুম গরম পানিতে নরম সুতি কাপড় ভিজিয়ে শিশুর শরীর ভালো করে মুছে দিন।

৬। শিশুর বয়স ৬ মাসের বেশী হলে গলায় নরম কাপড় পেঁচিয়ে রাখতে পারেন,যেন বাতাস না লাগে।

৭। নাক বন্ধ থাকলে নাক পরিষ্কার করে দিতে হবে। নরমাল স্যালাইন জাতীয় নাকের ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন।


কখন ডাত্তারের কাছে যাবেনঃ

 

১। শিশু যদি বুকের দুধ খেতে না পারে,জ্বর থাকে, দ্রুত শ্বাস নিতে থাকে অথবা শ্বাসকষ্ট হয় তবে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

২।শিশুর দেখা যায় জ্বরটা বেড়ে যাচ্ছ, তিন বা চারদিন পরও জ্বরটা বাড়তির দিকে,সর্দিকাশি কমছেনা,সেই ক্ষেত্রে অবিলম্বে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান।


মনে রাখবেনঃ


১।একটি শিশু যদি অন্তত ছ' মাস পর্যন্ত বুকের দুধ পান করে তবে পরবর্তী কালে সেই শিশুর এই ধরণের শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যাবে।

২।ছোট বাচ্চা বা সদ্যজাত শিশুরএকবার ব্রঙ্কিয়োলাইটিস হলে ভবিষ্যতে হাঁপানি হওয়ার আশঙ্কা বেশী থাকে।


সাবধানতাঃ

১। বাচ্চার নাকের ফুটা যেন পরিষ্কার থাকে, খেয়াল করুন।

২।বেশি বেশি পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার দিন

৩।শিশুর যথেষ্ট ঘুমাচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন।

৪। ঘন ঘন সর্দি পরিষ্কার করে দিন। অবহেলা করবেন না।

৫। অসুস্থ বাচ্চার কাছে কোন পোষাপ্রানি রাখবেন না

৬। বাচ্চার ঘর থেকে অদরকারী  জিনিস সরিয়ে ফেলুন,পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন









কোন মন্তব্য নেই

If you have any doubts please let me know

Blogger দ্বারা পরিচালিত.