পানিতে নিরাপত্তা | Water safety for kids
পানিতে ডুবে যাওয়া আমাদের দেশে খুবই গুরুতর একটি সমস্যা। এই পরিস্থিতিতে দেরী করার কোন সুযোগ নেই। সামান্য অবহেলার কারনে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কি হয়ঃ
১। ডুবে গেলে পানি শ্বাসনালী ও ফুসফুসে ঢুকে যায় ও শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
২।২ থেকে ৩ মিনিট শ্বাস বন্ধ থাকলে মস্তিষ্কের বিরাট ক্ষতি হয়ে
যেতে পারে।
৩।শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হওয়া ছাড়াও প্রচুর পানি পেটে যাবার কারনে পাকস্থলী
ফুলে যায়।
৪।৪ থেকে ৬ মিনিট শ্বাসক্রিয়া বন্ধ থাকলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
কি
করবেনঃ
১।পানি থেকে তুলে প্রথমেই রোগীকে মাটিতে সোজা করে শুইয়ে দিন।শরীরের ভেজা কাপড় সঙ্গে সঙ্গে খুলে শুকনো কাপড় পরিয়ে দিতে হবে।
২। ডুবন্ত ব্যক্তিকে পেছন থেকে হাতসহ জড়িয়ে ধরে পানি থেকে তুলতে পারেন।
৩।দেখতে হবে নাড়ি স্পন্দন আছে কি না।নাড়ি স্পন্দন এর জন্য গলার দুইপাশে দেখতে পারবেন।যদি গলায় হাত দিয়ে পালস না পাওয়া যায় তবে দুই হাত বুকের বা পাশে রেখে চাপ দিতে থাকতে হবে। ৩০বার বুকে চাপ দিন আর দুইবার মুখ লাগিয়ে বাতাস দিন এইভাবে চালিয়ে যেতে হবে পালস না পাওয়া পর্যন্ত। শিশু বা কম বয়সী হলে নাক-মুখ একসঙ্গে মুখের মধ্যে পুড়তে হবে আর বয়স্ক ব্যক্তি হলে নাক হাত দিয়ে চেপে ধরে মুখে মুখ লাগাতে হবে।
৪।মুখে বা নাকে কোনো কিছু আটকে থাকলে পরিস্কার করতে হবে।
৫।এরপরও যদি শ্বাস প্রশ্বাস চালু না হয়। তাহলে বুঝতে হবে ফুসফুসে ও পেটে পানি জমেছে।তখন পানি বের করার জন্য ওকে উপুড় করে শুইয়ে দিয়ে পেট ধরে উচু করতে হবে তারপর পিঠে আস্তে আস্তে চাপড় দিতে হবে।
৬।দেখতে হবে, শ্বাস দেওয়ার ফলে রোগীর পেট ফুলে কি না। যদি পেট ফুলে যায়, তাহলে বোঝা যাবে শ্বাস দেওয়া ঠিকমতো হচ্ছে। শ্বাস না নেওয়া পর্যন্ত এমনটি করে যান।
৭।ব্যক্তির পায়ের দিকটা উঁচু করে ধরে মাথা নিচু করে বুকে-পেটে হালকা চাপ দিলে মুখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসবে ।
৮। প্রয়োজনে ঠাণ্ডা হলে
গরম সেঁক দিতে হবে। দ্রুত হাসপাতাল নেওয়ার ব্যবস্থা করুন এবং নেওয়ার পথেও কৃত্রিম শ্বাস চালিয়ে যান।
কি করবেন নাঃ
১।পানি থেকে তুলেই পেটে চাপ দিয়ে বা শিশুকে উল্টো করে পেটে চাপ দিয়ে পানি বের করার চেষ্টা করবেন না এতে শিশু বমি করে দিতে পারে।
২।সাঁতারে পারদর্শী নয় এমন লোক ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার করতে যাবেন না।
৩। রোগীর ফুসফুস ও শ্বাসনালী থেকে পানি বের করার জন্য খুব বেশি সময় নেবেন না।
৪. প্রাথমিক বিপদ কাটিয়ে ওঠার পর রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান,
ঘরে বসিয়ে রাখবেন না।
প্রতিরোধের উপায়:
১।কাছের পুকুর/ডোবা/জলাশয়ের চারপাশে বেড়া দিতে হবে।
২।খিঁচুনি বা মৃগীরোগের লক্ষণ আছে তাদের কোন অবস্থাতেই জলাশয়ের কাছে যেতে দেয়া যাবে না।
৩। সাতারে পারদর্শী (Water safety instructor) কারো কাছে সন্তানকে সাতার শেখান।
৪।মনে রাখবেন শিশুরা বাথটাবে কিংবা পানিভর্তি বালতিতেও ডুবে যেতে পারে। নাক-মুখ পানিতে ডুবে গেলে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার জন্য যথেষ্ঠ।
৫।নদীপথে যাত্রার সময় লাইফ জ্যাকেট পরিধান করুন।

কোন মন্তব্য নেই
If you have any doubts please let me know