ছেলেটা মিশতে পারে না | introvert kid
আপনার ছেলেটা লাজুক? কারো সঙ্গে সহজে মিশতে চায় না? সব সময় মুখ ভার করে রাখে? তাহলে এই লেখাটি আপনার জন্য।
অন্তর্মুখী বা লাজুক কেন হয়ঃ
১।ছোটবেলা থেকে কোন শিশু পারিবারিক অশান্তির শিকার হলে।
২।তাকে অকারনে সবসময় বকাঝকা করা হলে।
৩। প্রতিনিয়ত তার কাজে বা পদক্ষেপে বাধা দেওয়া হলে ।
৪।হেয় বা কটুক্তি করা হলে,তার মধ্যে একটা হীনমন্যতাবোধ কাজ করে। সে নিজেকে “good for nothing”
ভাবা শুরু করে।
৫। সমবয়সী বন্ধু বা
ভাইবোনদের সঙ্গে কোন কিছুতে পেরে উঠলে
সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়।
৬। বাবা-মা’র মধ্যে ঝগড়া,মারামারি—শিশুর মানসিক শক্তিকে ভীষন ভাবে
দূর্বল করে দেয় ও তাকে অন্তর্মুখী করে তোলে।
৭। তার কোন
শারীরিক দূর্বলতা থাকলে ও সে অন্তর্মুখী হতে পারে।
অন্তর্মুখী (unsocial child) হওয়ার
লক্ষন কি কি:
২। চেঁচামেচি, উত্তেজনা বা পার্টি, অনুষ্ঠান বা খুব ভিড় এমন জায়গায় যেতে পছন্দ করে না।
৩। নিজের মতো করে নিজের সাথে সময় কাটাতে ভালোবাসে।
৪।নিজের অনুভূতি সঠিক ভাবে বোঝাতে পারে না বা একটু সময় লাগে।
৫।সবার সামনে কোনও কিছু পারফর্ম করতে হলে ভয় পায়।
৬। ক্লাসে কোনও প্রশ্ন থাকলে বলে উঠতে পারে না।
৭।নতুন কোনও পরিবেশে মানিয়ে নিয়ে অন্যদের তুলনায় বেশি সময় নেয়।
৮। বন্ধু তৈরি হতে সময় লাগে। আর হাতে গোনা বন্ধু থাকে আবার নাও থাকতে পারে।
২।অচেনা লোকের সঙ্গে
আলাপ করতে অস্বস্তি বোধ করলে ওকে
সাহায্য করুন।
৩।বাসায় কেউ আসার
কথা থাকলে ওকে
আপ্যায়নের কিছু দায়িত্ব দিয়ে
দিন। তে পারেন। ভুল হলে
দেখিয়ে দিন কিন্তু সবার সামনে
বকা দেবেন না।
৪। সুযোগ
পেলেই সবার সামনে ওর সম্বন্ধে ভালো কথা বলুন।
৫। বাচ্চা যখন
বন্ধুদের সাথে মিশতে চেষ্টা করছে, তখন তাকে অভিবাদন জানাবেন। এতে তাদের মনের জোর
বাড়বে।.
৬।পড়াশোনায় দুর্বলতার জন্য অন্তর্মুখী হলে ওকে সাহায্য করুন।
৭। ওর কি
পছন্দ করে খুঁজে বের করুন ও সেই কাজে উৎসাহ দিন। যেমনঃ বই পড়া, খেলাধূলা বা শ্রেফ ইন্টারনেটে সময় কাটানো।
৮।স্কুলে কিভাবে সময় কাটাল, বন্ধুদের সাথে কি করলো, কোন সমস্যা আছে কি না-- এগুলো নিয়ে আলোচনা করুন।
৯। বাড়িতে
কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করার আগে বাচ্চাকে বুঝিয়ে বলুন। কারন তার সামাজিক হতে
একটু সময় লাগতে পারে ।
১০।পিতা মাতা হিসেবে সন্তানকে বেশি বেশি সময় দিতে হবে। তার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে, ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে হবে।
২।
তার
ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও প্রতিযোগিতায় তাকে নামিয়ে দেবেন না।
৩।
পরীক্ষার ফলাফল খারাপ
করলে
সুন্দর করে জিজ্ঞেস
করুন, কেন এমন হল। বকা দেবেন না।
৪। ভাইবোনের সঙ্গে তুলনা
করে লজ্জা দেবেন না।
৬।
সন্তানের সামনে
তার নেতিবাচক দিক নিয়ে হাসিঠাট্টা করবেন না। মিশতে পারিস না”, “কোথাও নিয়ে যেতে ইচ্ছে হয় না” বা “ওদের দেখেও কিছু শেখ”— এসব বলবেন না।
২।কোন শিশুই অন্তর্মুখী (introverted child) হয়ে জন্মায় না।পরিবেশ তাকে এই অন্তর্মূখী হতে শেখায় ।

কোন মন্তব্য নেই
If you have any doubts please let me know