শিশুর জন্য খেলনা | baby toys
শিশুমনের আগ্রহ ও কৌতূহলকে আরো ত্বরান্বিত করে সেটা, যা নিয়ে সে নাড়াচাড়া করে—যেমন খেলনা। বাচ্চার মেধা এবং মনন প্রখর করতে ও আছে খেলনার বিরাট ভূমিকা। তাই এমন খেলনাই কেনা উচিত যেটি শিশুর বুদ্ধি বিকাশে সাহায্য করবে।
কেন খেলনাঃ
১। শিশু যখন ভাইবোন বা
পরিচিত কারো সাথে খেলনা নিয়ে খেলে, তখন সে সামাজিকতা শেখে,সম্পর্কের গভীরতা শেখে।নিজের জিনিস যে অন্যের সঙ্গে
ভাগ করতে হয় এটা অনুধাবন করতে শেখে।
২। নিজের ভেতরের সৃজনশীলতা ও কোন কিছু তৈরীর ক্ষমতা
বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় যখন শিশু গঠনমূলক কিছু বানায় যেমন ব্লক দিয়ে ঘর তৈরী,পাজল মেলানো
ইত্যাদি।
৩।বিভিন্ন শিক্ষামূলক খেলনা বা অ্যাপ
আছে যেগুলো শিশুকে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে পারে যেমন নাম্বার মেলানো,ছবি
দেখে অক্ষর চেনা,ফুল-পাখী চেনা ইত্যাদি ।
কখন কি ধরনের খেলনাঃ শিশুদের এমন খেলনা দেয়া উচিত
যেটি সৃজনশীল, রঙ্গীন,বার বার খেলতে পারে ও বুদ্ধি খাটানোর সুযোগ আছে। তবে হালকা ও
ছোট হলে ভালো, যাতে শিশু নিজেই সেটা নাড়াচাড়া করতে পারে। খেলনা কিনতে হবে শিশুর
বয়স বিবেচনা করে।
আসুন দেখি কোন বয়সে আপনার বাচ্চার কোন ধরনের
খেলনা (recalled toys) উপযোগী।
১। জন্ম থেকে ১২ মাস(baby toy for 1 year old): এই বয়সে স্পর্শ, শোনা ও দেখার অনুভূতি প্রবল থাকে। তাই ছোট্র ঝুনঝুনি,নরম ও আলো জ্বলে এমন যে কোন খেলনা,যে কোন সফট টয় দিতে পারেন। যখন সে বসতে শিখবে,রিমোট গাড়ী,কাপড়ের যে কোন পুতুল (যেমন টেডি),একশন ফিগার ইত্যাদি ও কিনতে পারেন।
২। ১২-২৪ মাস: এ সময় রিমোট গাড়ী বা আলো জ্বলে এমন গাড়ী,প্লাষ্টিকের
যে কোন খেলনা,নাম্বার ম্যাচিং গেম,বিল্ডিং ব্লকস,ছোট্র পিয়ানো ইত্যাদি দিতে পারেন সোনামনিকে।
৩। ২৪ মাস ও তার বেশি: বাচ্চা এখন বাড়ন্ত তাই খেলনা দেয়ার সুযোগ ও বেশী। খেলার
যে কোন বল (baby toy with balls),ছবি আকার বই বা শিক্ষামূলক বই, (ছবি সহ) প্লাষ্টিকের সাইকেল ও দিতে
পারেন। আর কিছু না হোক ওর হাতে একটা পেনসিল ও বড় কাগজ দিয়ে দিন। এখন আঁকতে দিন যা
ইচ্ছে !
সতর্কতাঃ মোবাইল আজকাল সহজ লভ্য ও বাচ্চারা খুব তাড়াতাড়ি মোবাইল গেমে আসক্ত হয়ে পড়ে। তাই মোবাইল থেকে যতটুকু ও যতদিন শিশুকে দূরে রাখতে পারবেন ততই ভালো।
জেনে রাখুনঃ সব সময় শিক্ষামূলক খেলনা দিতে হবে এমন কোন কথা নেই। যে কোন নিরাপদ খেলনা যেটি নিয়ে সে অনায়াসে অনেক সময় কাটিয়ে দিতে পারে, এমন জিনিস বাচ্চাকে দিতেই পারেন।
সাবধানতা:
১। খেলনার
কোন অংশ যেন শিশুর মুখের হা-র চেয়ে ছোট না হয়, না হলে মুখে গেলে গলায় আটকে যেতে
পারে।
২। খেলনা ভেঙে কোনও অংশ যেন বাচ্চার মুখে না যায়,সেটি খেয়াল রাখুন।
৩। খেলনার
আলো যেন বাচ্চার চোখের খুব কাছে যেন না যায়।
৪।
ছোট বয়সে লোহা বা কাঠের তৈরি কোন খেলনা দেবেন না যেমন ক্রিকেট ব্যাট,লোহার কাঠামোর
সাইকেল ইত্যাদি।
৫।
উচ্চ স্বরে শব্দ হয় এমন কোনো খেলনা না কেনাই ভালো। এটা শিশুর শ্রবণে সমস্যা সৃষ্টি
করতে পারে।
৬। শূন্যে ছুড়ে দেওয়া যায় এমন খেলনা শিশুর জন্য নিরাপদ
নয়। চোখে আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে।
৭। খেলনার
কোনো অংশ যেন ধারালো বা খসখসে না হয়।
৮। কাপড়ের
পুতুল বা এ জাতীয় খেলনা যেন ধোয়ার উপযুক্ত হয়।
৯। ধারালো
বা আক্রমনাত্মক খেলনা যেমন গানস, পিস্তল থেকে শিশুদের দূরে রাখাই ভালো। এসব থেকে
ভালো কিছু শেখার নেই।
১০।
সুতা বা দড়ি যুক্ত খেলনা দেবেন না। বাচ্চার গলায় পেঁচিয়ে যেতে পারে।
১১। বাড়িতে সাইকেল বা যে কোন গাড়ী চালানোর সময় মাথায় হেলমেট পরিয়ে দিন।
১২। কোন অ্যামিউজম্যান্ট পার্কে গিয়ে
বড়দের উপযোগী রাইডে বাচ্চাকে সাথে নেবেন না। এতে আপনার সন্তানের বড় ধরনের ক্ষতি
হয়ে যেতে পারে ।

কোন মন্তব্য নেই
If you have any doubts please let me know