ক্লিক করুন এখানে

সন্তানদের মধ্যে বৈষম্য | siblings relationships

 নিজের সন্তানদের সমতা রক্ষা করা মা-বাবার ওপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এটি ইসলামের অনন্য বিধানও। তাই সর্বদা মা-বাবাকে সন্তানের মধ্যে আচরণে সমতা রক্ষা করে চলতে হবে।

 পারিবারিক কিছু চিত্রঃ

 ১। আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ্য করে থাকি মেয়েশিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। কন্যাশিশুর চেয়ে ছেলেশিশুকে একটু বাড়তি খাবার দেয়া বা যে কোনো আবদার পূরণেও কন্যাশিশুকে কম গুরুত্ব দেয়া হয়।অনেক বাবা-মা ধরেই নেন মেয়ে ত অন্যের ঘরে চলে যাবে তার এত আদর-যত্নের কি দরকার। 

২।একাধিক পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে, যে সন্তান পড়াশোনায় ভাল বা যার আয় রোজগার বেশী তার প্রতি বাবা-মা বেশী ঝুকে পড়ে। 

৩।যে সন্তান বাবা-মা কে বেশী ভালোবাসে বা দেখভাল করে তার প্রতি ও বাবা-মার বাড়তি মমতা থাকাটাই স্বাভাবিক।

৪। আপনার পরিবারে একটি শারীরিক বা মানসিক ভাবে দূর্বল কোন সন্তান আছে, যার প্রতি আলাদা খেয়াল নেয়া হয় না।




কি প্রতিক্রিয়া হতে পারেঃ

১।অসম আচরণে সন্তানদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে, তখন সন্তানদের মধ্যে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক মনোভাব স্থান পায়, পরস্পরের মধ্যে সৃষ্টি হয় বিবাদ (siblings rivalry) ও অনৈক্য। এতে তাদের মধ্যে হতাশা এবং হিংসামূলক (siblings jealousy) আচরণ প্রবল হয়ে উঠতে পারে।  

২।যে সন্তান ভাবে তাকে কম ভালোবাসা হচ্ছে বা তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে তার মধ্যে বিধ্বংসী হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। 

৩। যে সন্তানের প্রতি বাবা মা বেশি ভালোবাসা প্রকাশ করে তার মধ্যে এক ধরনের অহংকার কাজ করে। বাবা মা, তার বদলে অন্যদের বেশি স্নেহ, ভালোবাসা বেশি দিলে সে  রাগান্বিত হয়। তার মধ্যে সব সময় উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা কাজ করে।

৪। অনেক সময়ই দেখা যায় বাবা মায়ের কাছে কোনো একটি সন্তান একটু বেশি প্রিয় হলে এবং সে যা চায় তা-ই যদি পেয়ে যায়, তবে ভবিষ্যতে এটি গুরুতর সমস্যা হতে পারে। পরবর্তীতে সে যদি কিছু চেয়ে না পায় তবে সে প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে উঠতে পারে।

 

আপনার করনীয়: 

১।যদি সন্তানের সুন্দর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আশা করেন তবে দেরী না করে  সন্তানের বন্ধু হয়ে যান। আপনি হবেন তার সবচেয়ে কাছের বন্ধু যার কাছে সে নিঃসংকোচে সবকিছু বলতে পারে বা আপনার কাছে তার সমস্যা শেয়ার করতে পারে।ছোট বেলা থেকেই এটি চালু করতে পারলে দেখবেন সন্তান কখনও আপনার অগোচরে কিছু করবে না। 

২। কোনো সন্তানের প্রতি যেন একপেশে আচরণ করা না হয়, যাতে অন্য সন্তান ভাবতে পারে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। 

৩।পরিবারে কন্যাশিশু যেন তার অন্য ভাইদের মত সমান আদর-যত্নে বড় হতে পারে--মা-বাবাকেই এ ব্যাপারে সচেতন ও সচেষ্ট থাকতে হবে। 

৪।শারীরিক বা মানসিক ভাবে দূর্বল সন্তানের প্রতি একটু বেশী ভালোবাসা দিন। সে যেন কোনভাবেই অবহেলিত না ভাবে নিজেকে। এ রকম দীর্ঘদিন চললে,তার মধ্যে আত্মহত্যার  প্রবনতাও তৈরী হতে পারে। 

৫।মা-বাবার উচিত সন্তানদের মধ্যে টাকা-পয়সা,সম্পত্তি বা যে কোন মূল্যবান বস্তু বণ্টনে যেন সব সন্তানের প্রতি সমতা রক্ষা করা হয়।বিদ্বেষবশত কারো প্রতি যাতে অবিচার করা না হয়। 

৬। সন্তানদের মধ্যে তুলনা করা ও উচিত নয়। ও এ রকম আর তুই এরকম কেন? এ ধরনের আচরনের কারনে সন্তান হীনমন্যতায় ভুগতে পারে বা জিদের কারনে ভয়ংকর কিছু করে বসতে পারে।     

 

ইসলাম কি বলেঃ 

১।পুত্রসন্তানদের মধ্যে এক ছেলেকে অন্য ছেলের ওপর প্রাধান্য দেওয়া বা কন্যাসন্তান কে অবহেলা করা--ইসলামে এ ধরনের বৈষম্য করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। 

২। রাসুল (সা.) বলেছেন “তোমরা নিজেদের সন্তানদের মাঝে সমতা রক্ষা কর। এমনকি চুমু দেওয়ার ক্ষেত্রেও


মনে রাখবেনঃ

 ১। কোনো একটি সন্তান মা বা বাবার কাছে প্রিয় হতেই পারে কিন্তু এক্ষেত্রে বিষয়টা খুবই সংবেদনশীলতার সাথে সামলানো প্রয়োজন। ঘরে ভাইবোনদের (siblings day) মধ্যে যেন কোন ভাবে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি না হয় সেদিকে কড়া নজর দিতে হবে। 

২। সাধারন ভাবেই কোন মানুষ যখন বৈষম্যের শিকার হয়, তখন নিজেকে খুব ছোট মনে করে ।প্রকৃতপক্ষে, মানুষ সহজাতভাবেই বৈষম্যকে মেনে নিতে পারে না

 ৩। রাসুল (সা.) বলেছেন,যার ঘরে কোনো কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে, আর সে তাকে কষ্ট দেয় না,তাকে অপমানিত করে না এবং তার ওপর পুত্রসন্তানদের প্রাধান্য দেয় না, আল্লাহ তাকে এই সন্তানের অসিলায় জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (মুসনাদে আহমাদ)।

 ৪। মা-বাবা যদি প্রয়োজনে কোনো সন্তানের জন্য ব্যয় করেন যেমন, অসুস্থতার জন্য,কারও শিক্ষার জন্য,ছেলে অথবা মেয়ে কেউ ঘুরতে যাচ্ছে, কারও পড়ালেখার জন্যএভাবে কারো জন্য কম খরচ বা কারো জন্য একটু বেশী--এভাবে প্রয়োজনের সময় সন্তানদের জন্য ব্যয়ের ক্ষেত্রে কম-বেশি করার মধ্যে কোনো অসুবিধা নেই।





 



কোন মন্তব্য নেই

If you have any doubts please let me know

Blogger দ্বারা পরিচালিত.