ক্লিক করুন এখানে

মুখে দুর্গন্ধ ! bad breath causes

মুখে দুর্গন্ধ একটি বিব্রতকর সমস্যা। যার এই সমস্যা আছে এবং তার আশেপাশে যারা থাকে; উভয়ের জন্যই এটি বেশ অস্বস্তিকর। চিকিৎসার পরিভাষায় মুখের দুর্গন্ধকে হ্যালাইটোসিস বলে।এই সমস্যাটি অবহেলা না করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। 

 


কেন হয়ঃ

১। দাঁতের ফাঁকে মুখের ভিতরে খাদ্যকণা ও জীবাণুর অবস্থান।

২। মাড়ির ভিতর জমে থেকে ডেন্টাল প্লাক এবং মাড়ির প্রদাহ।

৩।  অনেক শিশু নাকের চেয়ে মুখ দিয়ে বেশি শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস থাকে। এর ফলে মুখ দ্রুত শুকিয়ে যায় ও গন্ধ হয়

৪। কিডনির সমস্যা,লিভারে সমস্যা, ফুসফুসে ইনফেকশনের কারণেও মুখে বাজে গন্ধ হতে পারে।

৫। হজমের সমস্যার কারণে।

৪। মুখের যে কোনও ধরনের ঘা বা ক্ষত, ডেন্টাল সিস্ট বা টিউমার।

৫। শিশু (bad breath causes in child) কোন অ্যালার্জিটনসিলাইটিস বা সাইনাস সংক্রমণের কারনে

৭। পেপটিক আলসার বা পরিপাকতন্ত্রের রোগ,গলা বা পাকস্থলীর ক্যান্সার।

৮। হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভাবস্থা, ডায়াবেটিস,কিডনি ফেলিওর, লিভারের সমস্যা।

৯। ধূমপানের ফলে মুখের যে কোন ঘা শুকাতে সময় নেয়। সেক্ষেত্রে মুখে মারাত্মক দুর্গন্ধ হয়

১০। দাঁতের বা কানের অস্ত্রোপচার,কেমোথেরাপি দেয়ার কারনে ও মুখের মধ্যে টক স্বাদ পাওয়া যায়। ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিয়েশন থেরাপির কারণেও মুখের স্বাদ নষ্ট হতে পারে।

 



কি করবেন (cure for bad breath)

১। দিনে অন্তত ২ বার দাঁত মাজা দরকার, বড় ছোট সবার জন্য।

২। গাজর, আপেল জাতীয় ফল নিয়মিত খেলেও দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণু মুখে বাসা বাঁধবে না।

৩। জিহবা সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে,এজন্য জিহবা ও ব্রাশ করা জরুরি। ব্যাকটেরিয়া জিহ্বাতে বৃদ্ধি পেয়ে মুখে দুর্গন্ধ তৈরী করে।

৪। গ্রীন টি বা যে কোনও কালো চা (ব্ল্যাক টি) মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুগুলোকে জন্মাতে দেয় না।

৫। এসেন্সিয়াল অয়েল যুক্ত মাউথ ওয়াশ (mouthwash for bad breath)ব্যবহারে মুখের দুর্গন্ধ কমে যায়।

৬। প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস পানি পান করুন। এটি আপনাকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করবে এবং মুখের বাজে গন্ধ দূর করবে।

৭। দিনে এক  বা দুইবার ফ্লস দিয়ে দাঁতের গোড়া পরিষ্কার করার অভ্যাস করুন।

৮। মৌসুমি তাজা ফল সবজি চিবিয়ে খান। পুষ্টির জোগান হবে,মুখের গন্ধও দূর বে।

৯। কফি জিহ্বার ওপর এমন একটা প্রলেপ ফেলে দেয় যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়ক। কফির পরিবর্তে  চা মুখের দুগর্ন্ধের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে।

১০। চুইং গাম চিবাতে পারেন। তবে, চিনি আছে এমন মিন্টজাতীয় গাম না চিবানোই ভালো দারুচিনিও এক্ষেত্রে বেশ উপকারী

১১। দই খাওয়া হজমে সহায়ক এবং তা মুখ থেকে এমন গন্ধ দূর করতেও সাহায্য করে।

১২। ভিটামিন-ডি সূর্যালোক ছাড়া ও দুধ এবং দুধজাতীয় খাবারদাবারে থাকে যা,আপনার মুখ সতেজ রাখবে।

১৩। লেবুতে থাকা অ্যাসিডিক এসিড মুখের জীবাণুদের মেরে ফেলে। এক কাপ পানিতে ২ চামুচ লেবুর রস দিয়ে খেতে পারেন বা কুলি ও করতে পারেন।

১৪। এক গ্লাস পানিতে এক চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে আপনার বাচ্চাকে গার্গল করান। মুখের ব্যাকটিরিয়াকে মেরে ফেলবে এই মিশ্রণটি

১৫। পুতিনা পাতা হল প্রাকৃতিক মাউন্ট ফ্রেশনার।তাই মুখে গন্ধ হলে ২-৩টি পুদিনাপাতা চিবিয়ে ফেলে দিন।

১৬। বাচ্চার (toddler with bad breath) খাবার তালিকায় টক ফল যেমন কমলা, মাল্টা রাখুন। এর  সাইট্রিক অ্যাসিড মুখের গন্ধ দূর করবে ও ব্যাকটিরিয়াকে মেরে ফেলে।

১৭। এলাচ মুখে নিয়ে রেখে দিন। অল্প সময়ের মধ্যেই দুর্গন্ধ একেবারে কমে যাবে।

১৮। প্রতি ছয় মাস অন্তর আপনার শিশুকে অবশ্যই নিয়মিত দাঁতের চেকআপ করাতে হবে

১৯। পুষ্টির অভাব ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও মুখের দুর্গন্ধের কারন হতে পারে। তাই বাচ্চার খাদ্যে পুষ্টিকর খাদ্য বাড়িয়ে দিয়ে দেখতে পারেন।

কি করবেন নাঃ

১।কার্বনেটেড পানীয়ক্যান্ডি এবং চকোলেটগুলি দেবেন না বাচ্চাকে।

২। সিগারেট,জর্দা,পান বা যে কোনো তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবনে মুখে গন্ধসহ অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। ফলে, এমন অভ্যাস থাকলে সেটা ত্যাগ করুন








কোন মন্তব্য নেই

If you have any doubts please let me know

Blogger দ্বারা পরিচালিত.