মুখে ঘা | Mouth ulcer in kids
মুখের ঘা বা ওরাল থ্রাশ খুবই অস্বস্তিকর একটি প্রদাহ যেটি বাচ্চাদের বা বড়দের মুখের মধ্যে জিহবায়, ঠোটে বা ভেতরের অংশে হয়ে থাকে। এটি “দুধ ঘা” নামে ও পরিচিত।
ওরাল থ্রাশের লক্ষণ:
১। শিশুদের ঠোঁট, জিহবা (Mouth ulcer on toungue) , গালের ভেতর ও গলার ভেতরে পেছনের দিকে এক ধরনের সাদা আস্তরণ দেখা যায়। আর গালে ও ঠোঁটে হলে এর রঙ হয় লালচে ।
২। ঠোট ফেটে যায় এবং
বাচ্চা ঠিকমত হা করতে
পারেনা।
৩। বাচ্চা মায়ের বুকের দুধ টানতে পারেনা বা বন্ধ করে দেয় ও
কান্নাকাটি করে।
৪। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হালকা জ্বর থাকতে পারে।
৫। চিকিৎসা নিতে দেরি করলে ঘাগুলোতে
ব্যথা বাড়তে পারে।
৬। রক্তপাত হতে পারে।
কেন
হয়:
১। ক্যানডিডা অ্যালবিকানস নামক ছত্রাকের অস্বাভাবিক বংশ বিস্তারের কারনেই হয়ে থাকে।
২। শিশুর
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলেই ছত্রাক সংক্রমণ
বাড়তে পারে।
৩। বাচ্চাকে ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে
এ সমস্যা হতে
পারে।
৪। নিয়মিত দাঁত ব্রাশ না করা বা দাঁতের যত্ন না নেয়া।
৫। খাবার পর ঠিক মত কুলি না করা।
৬। শিশুরা ছত্রাক আক্রান্ত নখ মুখে দিলে কিংবা মায়ের নিপিল চুষে খাবার সময় ছত্রাক শিশুর মুখে ছড়িয়ে পরে ।
১।বাচ্চার বয়স শুধুমাত্র
১ বছরের বেশী হলে ঘা’র
স্থানে মধু লাগাতে পারেন। দ্রুত ভালো হবে।
২। হলুদে এন্টিসেপ্টিক ও এন্টি ব্যক্টেরিয়াল গুন
থাকায়,এটি মধুর সাথে মিশিয়ে বাচ্চার ঘা’তে লাগাতে পারেন।
৩। ঘরোয়া টোটকা (Mouth ulcer home remedy) হিসেবে ঘি ও বেশ কাজে দেয় ঘা সারাতে। তবে দিনে অন্তত তিন বার লাগাতে হবে। আর ঘি না থাকলে মাখন লাগাতে পারেন।
৪। শুনতে অবাক লাগলেও,আইস ক্রিম ঘা সারাতে সাহায্য
করে। বাচ্চা কান্না করলে দিতে পারেন তার পছন্দের আইস ক্রিম।
৫।চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়াই ভালো।
ঘা প্রতিরোধে:
২। শিশুর নখ কেটে ছোট রাখুন।
৩।
স্তন্যদানকারী মা এবং শিশু দুজনেরই ওরাল থ্রাশ হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহন করতে হবে।
জেনে রাখুন:
১। যেসব নবজাতক শিশু অকালজাত, কম
ওজন নিয়ে জন্মায় তাদের মাঝে
এই ক্যানডিডা সংক্রমণের হার বেশি।
২।নবজাতক থেকে শুরু করে ছয় মাস বয়সী
বাচ্চাদের মধ্যে রোগটি বেশী হয়।
নোটঃ পোষ্টি আপনার ভালো লাগলে, আমাদেরকে জানান, আপনার অনুভূতি। আপনার উপদেশ, মতামত আমাদের ভীষনভাবে অনুপ্রানিত করবে।

কোন মন্তব্য নেই
If you have any doubts please let me know