সুসন্তান তৈরীর অব্যর্থ কৌশল | How to be a good child
সুসন্তান বা ভালো সন্তান (good kid) পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাকে যদি ভালো কাজের শিক্ষা দিন তবে সে শুধু দুনিয়াতে নয়,আখিরাতে ও কল্যান বয়ে আনবে আপনার জন্য।
আপনার কি করনীয়ঃ বাবা-মা হিসেবে সন্তানকে সুশিক্ষা দান করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব। আপনি কি চান আপনার সন্তান একজন “আদর্শ” সন্তান (good kid) হোক? তাহলে চলুন জেনে নেই এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের কি কি দিক বিবেচনা করতে হবে।
১।ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখাতে হবে। কোন কাজটি ভালো আর কোনটি ভালো নয় এটি তাকে পরিষ্কার ভাবে বোঝাতে হবে ছোটবেলা থেকেই।
২।মা-বাবা সহ পরিবারের সব বড়দের
সম্মান,ছোটদের স্নেহ করা,মানুষ ও পশু পাখীর ক্ষতি না করা বা কষ্ট না দেয়া,মানুষের
সেবা করা-শিক্ষা দিন।
৩।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাঃ ঘরবাড়ী,পোশাক-আশাক,নিজের
রুম, ক্লাসের বসার জায়গা, ঘরের আশপাশ সবসময়পরিষ্কার রাখতে হয়—এই শিক্ষা হাতে কলমে দিতে হবে।
৪।প্রতিটি কাজে শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা
একান্ত দরকারী। সন্তানকে এর গুরুত্ব বুঝিয়ে দিন উদাহরন দিয়ে।
৫।প্রতেকের সাথে সুন্দর ভাবে কথা বলা, সে যেই হোক। সৎ ব্যবহার একটি উচু স্তরের মানবিক গুন। ছেলে/মেয়ে যেন শিশুকাল থেকেই এটা রপ্ত করতে চেষ্টা করে। তবে বাবা-মা কে দেখেই কিন্তু সন্তান শিখে সেটাও মনে রাখতে হবে।
৬।ধর্মীয় শিক্ষায়-শুরু করতে হবে ৫/৬ বছর
বয়স থেকেই। আরবী শেখা,নামাজ, রোজা ও ধর্মের অন্যান্য বিষয় গুলোর তালীম সে যেন নিতে
পারে কচি বয়সেই। দক্ষ কোন শিক্ষক নিযুক্ত করতে পারেন এ জন্য।তাছাড়া,গল্প করে
বিভিন্ন নবী,সাহাবী,বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে তাদের মহানুভবতা, পরোপকারের কথা শোনাতে
পারেন সন্তানকে।
৭।শিশুর মানসিক ও জ্ঞানের বিকাশে শিক্ষামূলক বই দিতে পারেন অথবা নাটক সিনেমাও দেখাতে পারেন—যেটি শিশু সুলভ এবং চারিত্রিক গুনাবলীর প্রকাশ শেখায়।বিভিন্ন প্রসিদ্ধ স্থান ভ্রমন করা ও শিশুর জন্য আনন্দদায়ক ও শেখার উপকরন হতে পারে।
৮।মানুষের সাথে মিশতে পারাও একটি গুন। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যেমন স্কুলের সাংস্কৃতিক বা স্পোর্টস,বার্থডে পার্টি,বিবাহ কিংবা মসজিদে নিয়ে যান তাকে। সবার সাথে কথা বলতে উৎসাহিত করুন, সাহস দিন।
৯। খেলাধুলা যেমন ফুটবল,ক্রিকেট, বা যে কোন বিনোদনের ব্যবস্থা করুন মাঝে মাঝে। বাইরে না পারলে, ঘরে ও এটা করতে পারেন।
১০।প্রতিদিনই কিছু না কিছু শেখান গল্পের মাধ্যমে
বা গান/মিউজিকের মাধ্যমে। এটা কোন স্কুলের পড়া হতে পারে যেমন নামতা শেখা তবে খেয়াল
রাখতে হবে সে যেন কিছু শিখতে পারে। পরে কোনদিন এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করুন।
১১। সন্তান যেন সংসারের কাজে সহযোগীতা করে (সামান্য হলে ও) তাকে এ শিক্ষা দিন।
১৩।বাচ্চাদের
আবদার মেটাতে সরাসরি ‘না’ বলে বলতে পারেন “অন্যদিন দিব” বা “এটা ভালো না” ইত্যাদি। সময়ে
সে হয়ত এটা ভুলে যাবে যখন অন্য কিছু কিনে দেবেন।কিন্তু রাগ করবেন না, রুঢ় আচরন
করবেন না।
১৪। বাচ্চার আগ্রহকে গুরুত্ব দিন। ধৈর্য না হারিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিন।
কি করবেন নাঃ
১। ছোট বলে বাচ্চাকে সবার সামনে অপমান করবেন না।
২। সময়ে-অসময়ে অযথা বাসায় কাউকে ডেকে এনে কিংবা ফোনে আড্ডা দিবেন না।এতে তারা মানসিক চাপ অনুভব করবে ।
৩। আপনার সন্তান পছন্দ করে না এমন কাউকে ঘরে আনবেন না।
৪। অসময়ে টিভি চলাবেন না। শিশুদের সামনে এমন কিছু দেখবেনা যাতে সে অস্বস্তি বোধ করে।
৫। বাচ্চাকে কারো সাথে তুলনা করে কিছু বলবেন না।
৬। বাসায় একজন শাসন করলে অন্যজন আদর করবেন না।
৭। ছোটদের সামনে বড়দের সমালোচনা করবেন না।
৮। কথায় কথায় রাগ করা, চেঁচানো, ভয় প্রদর্শন করা, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করবেন না।
৯।শিশুদের সঙ্গে চালাকি করা যাবে না। তাতে সে আস্থা হারিয়ে ফেলবে ও মিথ্যা বলা শিখবে।
১০। ছেলেকে পড়াশোনা বা খেলাধূলায় “তুখোড় হতে হবে, যে ভাবেই হোক”—এ রকম ধারনা ছেলে বা মেয়ের উপর চাপাবেন না। বরং তার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিন।
মনে রাখবেনঃ
১। অসদাচরণকারী, অবৈধ ভাবে উপার্জকারী বা অনৈতিক কাজে জড়িত মাতা-পিতার (bad parents) সন্তান কখনও নৈতিক ও আদর্শবান হতে পারবে না।


কোন মন্তব্য নেই
If you have any doubts please let me know