মুখে ব্রণ | Remove pimples naturally at home
মুখে ব্রণ,কম বয়সী ছেলে-মেয়েদের জন্য একটি বিরক্তিকর সমস্যা। নিয়মিত ভাবে ধৈর্যের সাথে ঘরোয়া কিছু চিকিৎসাতে ব্রণ অনেকটা ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কাদের হয়ঃ
১।সাধারনত বয়ঃসন্ধিকালে এ রোগ বেশী হয়।
২।১৮ থেকে ২০ বছরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশী দেখা যায়।
৩।
তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ
হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
ব্রণ কেন হয়ঃ
১। এটি দীর্ঘস্থায়ী একটি সমস্যা। ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সেবাম নামের একধরনের তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসৃত হয়। এই গ্রন্থির নালির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে সেবাম নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং তা জমে ফুলে ওঠে, যা ব্রণ নামে পরিচিত। তবে টেস্টোস্টেরন হরমোন ও এ জন্য দায়ী—এমন প্রমান মিলেছে।
২।৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে জেনেটিক সম্পৃক্ততা রয়েছে ব্রণের সাথে।
৩। কিছু কিছু ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, কোন কোন টুথপেস্টের কিছু বিশেষ উপাদান থেকে মুখে ব্রণ হতে পারে।
আপনার করনীয়ঃ
১।হালকা বা কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধোয়া ভালো। স্বল্পমাত্রায় ফেসিয়াল ক্লিনসার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ঘন ঘন মুখ ধুবেন না, এতে ত্বকের প্রদাহ বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া হালকা গরম পানির স্টীম নিতে পারেন। এতেকরে ত্বকে জমে থাকা ধূলোবালি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
২।ফাউন্ডেশন ও পাউডার ব্যবহার না করাই ভালো।
৩।চুল খুশকি মুক্ত রাখতে হবে। এর সাথে ব্রণ হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে ।
৪।ব্রণে হাত দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
৫।কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে চিকিৎসা নিন।
৬।রোদ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। রোদ ত্বকের প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়।
৭।ব্রন পেকে গেলে অথবা বেশী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
কিছু ঘরোয়া চিকিৎসাঃ
১। এক-দুই কোয়া রসুন কেটে ব্রণের
জায়গায় রস লাগান ও পাঁচ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। প্রতি রাতে ঘুমাবার আগে এটি করুন।
২।ধনিয়া পাতা বেটে তাতে কয়েক চিমটি হলুদ গুঁড়া
মিশিয়ে ২০-২৫ মিনিট রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন।
৩। দারুচিনি
গুঁড়ার সাথে গোলাপজল মিশিয়ে মিশ্রণ
বানান। ব্রণের ওপর ২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলকানি ও ব্যথা কমে যাবে। তাছাড়া গোলাপ জলের নিয়মিত
ব্যবহারে ব্রণের দাগ কমে যায়।
৪। গ্রিন টি বানিয়ে ঠাণ্ডা করে ব্রণের
জায়গায় ব্যবহার করুন বা তুলায় ভিজিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। ঠাণ্ডা গ্রিন টি’র
ব্যাগটিও রাখতে পারেন ত্বকের ওপর। ২০ মিনিট রাখার পর ধুয়ে ফেলুন।
৫।ব্রণের প্রকোপ কমাতে ও দাগ দূর করতে মধু বেশ
কার্যকরী। হাল্কা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে মুখ
মুছে আঙ্গুলের
ডগায় মধু নিয়ে ব্রণে লাগিয়ে রাখুন ১০ মিনিট। তবে ২ ঘণ্টা মুখে কোন ধরনের প্রসাধনী লাগাবেন না।
৬। লেবুর রসের সাথে দারুচিনির
মিশ্রণ তৈরি করে, রাতে ঘুমানোর আগে সেটা ব্রণের ওপর লাগিয়ে রাখুন। সকালে ধুয়ে
ফেলুন।
৭।একটি
বরফের টুকরোকে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে কয়েক মিনিট ব্রণের ওপর রাখুন। বরফ সরাসরি
ব্রণে লাগাবেন না। এটি ৮-১০ মিনিট পর পর ব্যবহার করুন।
৮। চার-পাঁচটা অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট গুড়া করে অল্প পানির
সঙ্গে মেশানও পেস্ট তৈরি করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পেস্ট আক্রান্ত জায়গায়
লাগান। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন।
৯। কাঁচা কদবেলের রস তুলাতে ভিজিয়ে ব্রণ আক্রান্ত জায়গাতে
লাগান ও ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।এই রস ব্রণের জন্য খুবই উপকারী।
১০।নিমপাতা বেটে তার সাথে চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে ত্বকে লাগান
ও ১৫-২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
১১।সামান্য সরিষা গুঁড়ার সাথে এক চা
চামচ মধু মিশিয়ে ব্রণে লাগান ও ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এতে ব্রণের দাগও দূর হবে (how to remove pimple scars)।
১২।একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া পদ্ধতি। প্রথমে আপেলের পেষ্ট তৈরি করে তাতে ৪-৬ ফোঁটা মধু মেশান।মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষন মপর ধুয়ে ফেলন। সপ্তাহে ৫-৬ বার এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
১৩।তুলসি পাতায় আছে আয়ূর্বেদিক গুণ থাকায়,এর রস ব্রণ আক্রান্ত অংশে লাগিয়ে রেখে দিন বেশ কিছু সময়। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।
১৪। লবঙ্গ গুঁড়া করে তাতে গোলাপ জল মেশান। ব্রণের জায়গাগুলোতে গাঢ় করে প্রলেপ দিন। ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটি ও খুব কার্যকর।
১৫। টাটকা পুদিনা পাতা বেটে ব্রণের ওপর ২০ মিনিট লাগিয়ে
রেখে ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।
১৬। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে জলপাই তেল দিয়ে পরিষ্কার করলে ত্বক মসৃণ হবে এবং ব্রণের উপদ্রব ও আস্তে আস্তে কমে যাবে।
১৭।ব্রণ সারাতে যেকোনো ওষুধ সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রতিরোধের উপায়ঃ
১। প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি, ফল ও প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করুন।
২। ঝাল, মশলাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবার খাওয়া যাবে না।
৩। ব্রণ হলে আচার একদম না।
৪। কোল ড্রিঙ্কস একেবারেই খাওয়া যাবে না।
৫। তৈলাক্ততা কমানোর জন্য সাবান দিয়ে দিনে কয়েকবার মুখ ধুতে হবে।
৬।তৈলাক্ত খাবার, ঝাল, ভাজাপোড়া, চকলেট, আইসক্রিম ও ফাস্টফুড খাওয়া কমাতে হবে।
৭। ব্রণ একবার হয়ে গেলে খোঁটা যাবে না, খুঁটলে গর্ত হয়ে যাবে।
৮। পনির, দুধ এবং দই কম খেতে হবে।
৯। যদিও কোনো বিশেষ খাবারের কারনে ব্রণ হয় তবে সে খাবারটি বাদ দিতে হবে।
২। তেলযুক্ত ক্রিম বা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না।
৩। ব্রণে
হাত লাগাবেন না, খুঁটবেন না।
৪। চুলে
এমনভাবে তেল দেবেন না, যাতে মুখ তেলতেলে হয়ে যায়।
৫। তেলযুক্ত বা ফাস্টফুড খাবার ও উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
· ৬। তেলযুক্ত ক্রিম অথবা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা যাবে না।
· জেনে রাখুনঃ
১। পরিসংখ্যান বলছে, সারা পৃথিবীতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ টিনেজার ব্রণজনিত সমস্যায় ভোগে।
২। ছেলে- মেয়ে সবারই হতে পারে। তবে তুলনামূলকভাবে ছেলেদের একটু কম হয়। তবে ছেলেদের হলে তীব্রতা একটু বেশি থাকে।
আপনার ছেলে বা মেয়ের ব্রণ সমস্যায় এই লেখাটি কতটা উপকারে আসল, আমাদের লিখে জানালে লেখাটিকে স্বার্থক ভাববো।

কোন মন্তব্য নেই
If you have any doubts please let me know