শিশুকে নিয়ে ভ্রমনে | baby travel
পরিবার নিয়ে ভ্রমনের ক্ষেত্রে বেড়ে উঠা শিশুর প্রতি একটু বাড়তি যত্ন করা দরকার। সেই সঙ্গে ভ্রমণকে আরও নিখুঁত ও স্বস্তিদায়ক (travel safety) করতে ভ্রমণ বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ন বিষয় নিয়ে এসেছি এই লেখায়।
ভ্রমনের
প্রস্তুতি:
১। কোন স্থানে ভ্রমণ করতে যাবেন,কি দেখবেন—এ ব্যাপারে শিশুর মতামত (child travel consent) জিজ্ঞাসা করুন। ২। কোথায় যাবেন,কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন,কি দেখবেন,কতদিনের জন্যে বেড়াতে যাবেন, পাহাড়,বীচ না বন-জঙ্গল—এ সব কিছুর একটা মাস্টার প্ল্যন করে ফেলুন, যাতে আপনার ও আপনার সন্তানের কোন রকম কষ্ট না হয় ভ্রমনে।
২। বেড়াতে
যাওয়ার আগে ওর সঙ্গে একটু বেশি সময় কাটান। যেখানে যাবেন, সেই জায়গাটা কেমন, সে
বিষয়ে সন্তানকে একটা ধারণা দিয়ে রাখুন।
কি নেবেন সাথেঃ
১। ভ্রমণে শিশুরা যেন বিরক্তিবোধ না করে সেজন্য তাদের পছন্দের
বই,কার্টুন কিংবা মুভি মোবাইল ফোন বা ট্যাবে লোড করে নিন।
২। খেলার জন্য বল, ব্যাট কিংবা
অন্যান্য খেলনা নিন।
৩। অবশ্যই
অনেক ডায়পার নেবেন ও সাথে ডিজপোজেবল পলিথিন রাখুন। তাতে ব্যবহৃত ডায়পার ফেলতে
সুবিধা হবে।
৪।
কোন ঔষধ যা সে নিয়মিত খায় বা কিছু দরকারী ঔষধ মাথাব্যাথা,পেটব্যাথা,হাত/পা কেটে
গেলে ব্যন্ডেজ, ডেটল,এন্টিসেপ্টিক ক্রীম, পুড়ে গেলে বার্নল,অ্যান্টিসেপটিক,স্যালাইন,সর্দির জন্য নাকের ড্রপ, অ্যান্টি-ভমিটিং ওষুধ ইত্যাদি নিন।
৫।ফোনের
চার্জার,টর্চ লাইট ও
এক্সট্র ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাংক,ভালো ক্যামেরা,বাইনোকুলার,
থ্রি পিন
ফ্লাগ ও কনভার্টার নিয়ে নিতে পারেন।
৬।বাবা-মা’রা আলাদা
ব্যাগে আপনাদের ঔষধ নিন।
৭।শিশুর
জন্য পর্যাপ্ত পোশাক ও দরকারী ছোটখাট জিনিস কয়দিন আগে থেকেই গুছিয়ে নিন।
৮।ত্বক রক্ষার জন্য সানস্ক্রিন,
লোশন,সেম্পু,শেভিং ফোম, রেজার,টুথ ব্রাশ, নিতে
হবে।
৯। কাপড় নিন প্রয়োজনের চেয়েও বেশী যেমন এসি থাকলে বাচ্চার ঠাণ্ডা
লাগবে। কিন্তু খেয়াল রাখবেন অতিরিক্ত ভারী ব্যাগ আপনার ভ্রমণকে বিরক্তিকর করে তুলে
পারে।
১০।জাতীয়
পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে রাখুন।
একটি কাগজে নাম,
ঠিকানা ও ফোন
নম্বর লিখে লাগেজের উপর সেঁটে দিন। যাঁরা ভ্রমণে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেক সদস্যের নাম, ঠিকানা, ফোন
নম্বরসহ জরুরি তথ্য
কাগজে লিখে রাখুন।
১১। মোবাইলে ব্যালেন্স
যথেষ্ঠ রাখুন। প্রয়োজনের
চেয়ে অতিরিক্ত কিছু টাকা
সাথে রাখুন।
১২। ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্যে সঙ্গে
করে মাফলার, মোজা, গ্লাভস, হুড
সহ কাপড় পরিধান করতে পারেন।
১৩। অবশ্যই বাড়তি মাস্ক, সেনিটাইজার সাথে
রাখুন।
শিশুর প্রতি খেয়াল (travel safety):
১। ট্রেনেই
হোক বা প্লেনে, বাচ্চাকে জানালার পাশে বসাবেন । বিমানে সব সময় সিটবেল্ট ও গাড়িতে
যাতায়াত করলেও সিটবেল্ট লাগিয়ে রাখবেন।
২। কোথাও
গিয়ে পানিতে নামতে হলে লাইফ-জ্যাকেট অবশ্যই পরিয়ে দিন।
৩। হোটেলে
কেউ দরজায় টোকা দিলে বা বাইরে থেকে ডাকলে, আপনার বাচ্চা যেন দরজা না খোলে।
৪।ভালো
করে ফিল্টার করা পানি ছাড়া বাচ্চাকে অন্য কোনও পানি পান করাবেন না।
৫। ভ্রমন কালীন লিফটে
চড়তে বাবা,মা কেউ সাথে যাবেন। অন্য কারো সাথে(unaccompanied minors) দেবেন না।
৬।মেয়ে শিশুকে কারো সাথে ছাড়বেন না। এটা নির্ভর করে, আপনি কাকে কতটা বিশ্বাস
করবেন।
৭।বাড়িতে
যে সময় ঘুমানো হয়, সে সময়টিই ঠিক রাখার চেষ্টা করুন। এতে শিশুর ওপর বাড়তি চাপ পড়বে
না। শিশুর ঘুম নিয়ে আরো জানতে ক্লিক করুন
৮। শিশুর ন্যাপি পরিবর্তন
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ভ্রমণকালেও এ কাজে যেন গুরুত্ব কমে না যায়, তা খেয়াল
করতে হবে।
৯।হাতের কাছে বাচ্চার খাবার
যেমন কেটে নেয়া ফল,চকলেট,ঘরে তৈরী স্ন্যাকস,সেন্ডউইচ রাখুন। তবে চিপস,ফাষ্ট ফুড না
নেয়াই ভালো।
১০। বেবীকে বহন করার
জন্য “বেবী ক্যারিয়ার” (portable cot) বা “ষ্ট্রলার” (travel stroller) ও নিতে পারেন।
১১। আপনার বাচ্চার ব্যাগে বা
ব্রেসলেটের মধ্যে ছোট কাগজে লিখে রাখুন ওর নাম,বাবার মোবাইল নাম্বার। কোন কারনে আপনার থেকে আলাদা হয়ে
গেলে, যাতে সহজে কেউ যোগাযোগ করতে পারে।
আগাম খোঁজ খবরঃ
১। যেখানে যাবেন ঠিক
করেছেন, তার আশপাশে কি দেখার আছে,
কোথায় কোথায় ঘুরতে
যাবেন তা আগেই খোঁজ
খবর নিয়ে একটা
তালিকা করে ফেলুন।
২। সেখানকার আবহাওয়া ও আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সম্পর্কে খবর নিয়ে
যাবেন।
৩।সেখানকার জরুরি ফোন
নাম্বার নিকটস্থ থানা (পুলিশ), টুরিস্ট পুলিশের হেল্প ডেক্স নাম্বার, হাসপাতাল,
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ব্যাংক ইত্যাদি নোট রাখুন।
৪। স্থানীয় কোনো পরিচিত কেউ থাকে তাহলে
তার বা রেফারেন্স এর ফোন নাম্বার নেবেন।
৫। আগে থেকে
এজেন্সির মাধ্যমে হোটেল
বা প্যাকেজ বুকিং
দিন।
৬। ভ্রমণে যাচ্ছেন এই বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে পারেন।
ভ্রমণের আরো কিছু তথ্যঃ
১। ভুঁড়িভোজন শরীরে আলস্য
নিয়ে আসে, যা ভ্রমণে একান্তই কাম্য নয়।
২। সঙ্গে সবসময় কিছু শুকনো
খাবার রাখতে পারেন।
৩। ভ্রমণের খাবারে ফাস্টফুড আইটেম, বেভারেজ, ফ্লেভারড জুস, চিপস ইত্যাদি পরিহার করুন।
৪।প্রচুর পানি করুন ও বাচ্চাকে ও
পানি দিন।
৫।বাড়ীর লোকদের জানান আপনি কোন
হোটেলে আছেন, ফোন নাম্বার ও দিন।
৬।ভ্রমনের সময় গাড়ির নাম্বার সেভ করে রাখবেন এবং পরিচিত কাউকে জানিয়ে রাখতে পারেন।
৭। নিজের
গাড়ি নিয়ে দূরে
যেতে হলে, কোনো সমস্যা আছে কিনা আগে চেক
করুন। বাড়তি চাকা অবশ্যই গাড়িতে রাখবেন।
৯। খালি বাড়ী
রেখে গেলে, মিনি ক্যামেরার ব্যাবস্থা করতে পারেন। মোবাইল থেকে সহজেই মনিটর করতে পারবেন।
১০। রোদ থেকে
বাঁচার জন্যে কাপড়ের টুপি বা ক্যাপ,সান গ্লাস সঙ্গে
নেবেন। ছাতা ও নিতে
পারেন।
১১। গোসলের বাড়তি পোশাক নেবেন
যদি নদী, ঝর্ণা বা
সাগরে যান।
সাবধানতা (safety tips):
১। প্লেনে ভ্রমনে (flying with children) কানের ভেতরে অভ্যন্তরে বায়ুচাপ বেড়ে
যায়,এতে কানে ব্যাথা হতে পারে, করে,বাচ্চারা কান্নাকাটি করতে পারে। এ সময় বাচ্চার
মুখে ললি পপ,বাবল গাম ও নবজাতকদের বুকের দুধ খাওয়ান কিংবা ফিডার দিন।
২। সব
টাকা মানিব্যাগে না রেখে
কিছু টাকা অন্য
জায়গায় রাখবেন।
৩।
ভ্রমণের সময় অপরিচিত লোকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
মনে
রাখবেন:
২। বাচ্চারা
বিরক্ত করলে রাগ করবেন না। বরং মাঝে মাঝে আদর করে দিন।
৩। পারিবারিক
ভ্রমন যেন শিশুর জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে, এটি নিশ্চিত করুন।

কোন মন্তব্য নেই
If you have any doubts please let me know